বিয়ের পর এই জিনিসগুলো একদম করবেন না

সম্পর্ক যতই মধুর হোক না কেন, দাম্পত্য থাকলে টুকটাক খিটিমিটি থাকবেই। একসঙ্গে দুজন মানুষ বাস করতে গেলে সেই খিটিমিটি মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতাও রাখতে হয়। অল্প-বিস্তর খিটিমিটি পর্যন্ত ঠিক আছে, কিন্তু সেটা যেন কলহে রূপ না নিতে পারে সে খেয়াল রাখাটা জরুরি। অনেকেই হয়তো বলবেন, ঝগড়া করলে সম্পর্ক ভালো হয়। ধারণা কিন্তু একদম ভুল! ঝগড়া করলে সম্পর্ক ভালো হয় না, বরং ঝগড়ার সময়ে আমরা রাগের মাথায় এমন অনেক কিছু বলে বা করে ফেলি যা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। সঙ্গীর মনের এমন কোথাও হয়তো আঘাত দিয়ে ফেলি যা তিনি কখনো ভুলতে পারেন না। আর তাই, সমস্যা যতই গভীর হোক দাম্পত্যের ক্ষেত্রে কলহটা এড়িয়ে যেতে হবে সুকৌশলে।

 

 

ছবি

 

 

কীভাবে? আদ্যোপান্ত নিয়ে আজকের ফিচার…

আপনিও রেগে উঠবেন না

দাম্পত্য কলহ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একতরফাই শুরু হয়ে থাকে। সঙ্গী হয়তো রেগে গিয়ে কিছু বললেন, পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে এক কথায় দুই কথায় কলহ শুরু হয়ে যায়। আপনার জীবনসঙ্গীকে আপনার নিজের চাইতে ভালো আর কেউ চেনে না। আর তাই, যখনই মনে হবে সঙ্গী কোন একটা ব্যাপার নিয়ে বিষণ্ন বা রেগে গেছেন, আপনিও চট করে রেগে যাবেন না। তিনি যদি রাগ করে আপনাকে কিছু একটা বলেও বসেন, তবেও রাগ করবেন না। দুজনে একসঙ্গে রেগে গেলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায়। আপনি বরং নিজেকে বোঝান, শান্ত থাকুন।

কথা বললে কথা বাড়ে

রাগের মাথায় মানুষ অনেক কিছুই বলেন, সব কথা ধরতে নেই। সব কথা ধরে কথার পিঠে কথা বলারও কোন প্রয়োজন নেই। সঙ্গী রেগে গিয়ে কিছু বলছেন ভালো কথা, আপনি চুপ থাকুন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যে কোন এক পক্ষ চুপ থাকলে পরিস্থিতি নিজ হতেই ঠাণ্ডা হয়ে আসে। যদি চুপ থাকতে না পারেন, তাহলেও এমন কিছু বলবেন না যাতে সঙ্গীর রাগ আরও বাড়ে। বরং তাঁকে বুঝিয়ে শুনিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করুন।

দাম্পত্য মানে হারজিত নয়

দাম্পত্য কোন প্রতিযোগিতা নয় যে এক পক্ষকে জিততে হবেই। আপনার কথাই থাকবে, আপনার কথাই শেষ কথা ইত্যাদি ভাবনা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। দোষ যারই হোক, যে কোন এক পক্ষকে সন্ধি করার উদ্যোগ নিতেই হয়। পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে যাবার আগে নিজেই হাত বাড়ান। দিনশেষে মানুষটি আপনার জীবনসঙ্গী। সমস্যা যতই বড় হোক, জীবনসঙ্গীর সঙ্গে কলহপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করা বোকামি।

চোখের আড়াল হলে মনের আড়াল

যদি কোন কিছুতেই কাজ না হয়, সেক্ষেত্রে কিছুক্ষণের জন্য চোখের আড়াল হয়ে জান। হয়তো অন্য কামরায় গিয়ে বসে থাকলেন, কোনো একটা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন, কিংবা বাইরে থেকে একটু ঘুরে এলেন। প্রচণ্ড রাগ বেশিক্ষণ ধরে রাখা মুশকিল। কিছুটা সময় দূরত্ব থাকলে রাগ আপনা হতেই কমে আসে।

তবে এখানেই শেষ নয়

কলহ করবার মতোন পরিস্থিতি যখন তৈরি হয়েছে, সেটার একটাই অর্থ- কোথাও না কোথাও সমস্যা আছে। সেই সমস্যা পুষে রাখলে সমস্যা, কিছুদিন পর আবারও মাথা চাড়া দেবে। সঙ্গীর রাগ কমে গেলে সমস্যা নিয়ে দুজনে ঠাণ্ডা মাথায় আলোচনা করুন ও সমাধান করার চেষ্টা করুন। এই কাজটি জরুরি। এটা এড়িয়ে গেলে কখনো দাম্পত্যকলহ সমস্যার সমধান হবে না পুরোপুরিভাবে।

একটি ব্যাপার সর্বদা মনে রাখবেন-

পারস্পরিক সম্পর্ক যদি ভালো থাকে, তবে যে কোন সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু সমস্যার সমধান করতে গিয়ে দাম্পত্যে কলহপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করবেন না। তাতে কোনো সমস্যারই সমধান হবে না, উল্টো বাড়বে।

source : bdnewsinsider

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *