ঠাকুর ঘরে পান্না দিয়ে তৈরি শিবের মূর্তি প্রতিষ্টা করলে কী উপকার পাওয়া যায় জানেন ?

প্রতি সোমবার শিব ঠাকুরের আরাধনা করলে যে একাধিক উপকার পাওয়া যায়, সে সম্পর্কে নিশ্চয় জানা আছে! কিন্তু একথা জানেন কি পান্না দিয়ে তৈরি ছোট একটা শিবের মূর্তি বা লিঙ্গ বাড়িতে প্রতিষ্টিত করলে কি হতে পারে? আসলে এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে এমন মূর্তি বাড়িতে আনলে সাধারণ শিবের মূর্তি পুজো করলে যা উপকার মেলে, তার থেকে আরও বেশি মাত্রায় সুফল মেলার সম্ভাবনা যায় বেড়ে। শুধু তাই নয়, বিশেষ এই মূর্তির প্রভাবে বাড়ির প্রতিটি কোণা আনন্দে ভরে ওঠে। সেই সঙ্গে আরও যে যে উপকারগুলি পাওয়া যায়, সে সম্পর্কে বাকি প্রবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

তাই তো বলি বন্ধু, লক্ষ জীবন পেরিয়ে পাওয়া এই মানব জীবনকে যদি সার্বিকভাবে সফল বানাতে হয়, তাহলে এই লেখাটি পড়তে ভুলবেন না যেন! জেম স্টোনের জগতে একবারে প্রথম সারিয়ে থাকা উজ্জ্বল বহুজ রঙের পান্নার অন্দরে মজুত রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পজেটিভ শক্তি, যার প্রভাবে জন্ম কুষ্টিতে বুধ গ্রহের অবস্থান শক্তিশালী হতে শুরু করে। ফলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা এতটা বৃদ্ধি পায় যে কর্মক্ষেত্রে উন্নতি লাভ করতে সময় লাগে না।

শুধু তাই নয়, যারা ক্রিয়েটিভ কাজ করে থাকেন, তাদেরও নিজ নিজ ফিল্ডে উন্নতির স্বাদ মেলে চোখের পলকে। সেই সঙ্গে কথা বলার সমস্যা, ফুসফুসের রোগ, অ্যালার্জি এবং নার্ভের সমস্যার প্রকোপও কমে। আর এবার ভাবুন তো এমন শক্তিশালী স্টোন দিয়ে তৈরি শিব ঠাকুরের পুজো করলে কতই না উপকার মিলতে পারে। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে যে যে সুফলগুলি মেলে, সেগুলি হল…

ছবি

১. মানসিক অবসাদের প্রকোপ কমে: সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সমীক্ষা রিপোর্ট অনুসারে আমাদের দেশের যুব সমাজের মধ্যে মানসিক অবসাদ এবং স্ট্রেসের মতো সমস্যায় আক্রান্তে সংখ্যাটা ক্রমাগত বাড়ছে, যার প্রভাবে আত্মহত্যার রেটও বাড়ছে বেজায় লাফিয়ে লাফিয়ে। এমন পরিস্থিতি মনকে শান্ত এবং স্ট্রেস ফ্রি করতে পান্না দিয়ে বানানো শিব ঠাকুরের পুজো করা মাস্ট! কারণ এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে এই জেমস্টোনটি দিয়ে বানানো শিব লিঙ্গ বা মূর্তির আরাধনা করলে বাড়ির প্রতিটি কোণায় পজেটিভ শক্তির মাত্রা এতটা বেড়ে যায় যে স্ট্রেস এবং ডিপ্রেশনের মতো সমস্য়ার প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে মনও শান্ত হয়। ফলে মানসিক অশান্তি দূর হয় চোখের পলকে।

২. নেগেটিভ শক্তির প্রভাব কমতে থাকে: জেমস্টোন বিশেষজ্ঞদের মতে পান্না হল বেজায় শক্তিশালী একটি স্টোন। তাই তো এটি সঙ্গে রাখলে বেজায় উপকার পাওয়া যায়। আর সেই স্টোন দিয়ে বানানো শিবের মূর্তির পুজো করলে আশেপাশে শুভ শক্তির প্রভাব এতটা বেড়ে যায় যে খারাপ শক্তি ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে কু-দৃষ্টির প্রভাবও কমতে থাকে। ফলে কোনও খারাপ ঘটনা ঘটার আশঙ্কা যায় কমে।

৩. যে কোনও সমস্যা মিটে যায়: এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে বাড়িতে পান্না দিয়ে বানানো শিবের মূর্তি প্রতিষ্টা করলে দৈনন্দিন জীবনে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা যে কোনও সমস্যা মিটে যেতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে পরিবারে সুখ এবং সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগে। ফলে আনন্দে ভরে ওঠে প্রতিটি দিন।

৪. চরম সফলতার স্বাদ মেলে: যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে পান্নাকে ধারে কাছে রাখলে জন্ম কুষ্টিতে বুধ গ্রহের অবস্থান শক্তিশালী হয়। ফলে কর্মক্ষেত্রে চরম সফলতা স্বাদ পেতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে আর্থনৈতিক উন্নতিও ঘটে চোখে পরার মতো। তাই তো বলি বন্ধু অল্প সময়ে যদি অনেক অনেক টাকার মালিক হয়ে উঠতে চান, তাহলে আজই একটু পকেট হাল্কা করে ছোট একটা পান্নার শিবের মূর্তি বা লিঙ্গ কিনে এনে বাড়ির ঠাকুর ঘরে প্রতিষ্টিত করতে ভুলবেন না যেন! প্রসঙ্গত, পান্না দিয়ে বানানে শিবের মূর্তির দাম সাধারণত ১০০০-১৮০০০ টাকার মধ্য়ে হয়ে থাকে।

৫. রোগ-ব্যাধি দুরে পালায়: শাস্ত্র মতে দেবতাদের মধ্যে সবর্শক্তিমান হলেন মহাদেব। তাই তো একাগ্রতার সঙ্গে তার পুজো করলে দেহের অন্দরে এত মাত্রায় পজেটিভ শক্তির বিকাশ ঘটতে থাকে যে ছোট-বড় নানা রোগের খপ্পর থেকে মুক্তি মিলতে সময়ই লাগে না। আর শিবের মূর্তিটি যদি পান্না দিয়ে বানানো হয়, তাহলে তো কথাই নেই! প্রসঙ্গত, এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে এমন মূর্তির পুজো করার পাশাপাশি যদি নিয়মিত “ওম নমঃ শীবায়, ওম নম ভগবতে রুদ্রায়!”, এই মন্ত্রটি যপ করা যায়, তাহলে ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায় চোখে পরার মতো।

৬. মনের জোর বাড়ে: এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে প্রতি সোমবার পান্না দিয়ে বানানো শিব ঠাকুরের মূর্তির পুজো করার পাশপাশি যদি রুদ্রাক্ষের মালা পরা যায়, তাহলে মনের জোর বাড়তে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে ঘরে-বাইরে এত মানসিক চাপ সহ্য করতে হয়, সেখানে শিবমন্ত্র পাঠ এবং রুদ্রাক্ষের মালা পড়লে যে বেজায় উপকার মেলে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

৭. পাপের শাস্তি পাওয়া থেকে মুক্তি মেলে: জীবন পথে চলতে চলতে কিছু না কিছু ভুল আমরা কম-বেশি সকলেই করে থাকি। তাই তো সেই সব পাপ কাজের শাস্তির খপ্পর যদি পরতে না চান, তাহলে প্রতি সোমবার মাহদেবের পুজো করার পর কাল ভৌরবের পুজো করতে ভুলবেন না যেন! কারণ এমনটা করলে পাপের জাল থেকে মুক্তি মেলে। ফলে মৃত্যু পরবর্তি জীবনে স্বর্গলাভের সম্ভাবনা বাড়ে। প্রসঙ্গত, মৃত্যুর পর আদৌ কোনও জগত রয়েছে কিনা সে নিয়ে বিতর্কের অবসান এখনও হয়নি। তাই স্বর্গ লাভের আশায় নয়, মনশুদ্ধির উদ্দেশ্যে মহাকালের পুজো করুন। দেখবেন ফল পাবেন একেবারে হাতে-নাতে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *