রাজ্ ও শুভশ্রীর বিয়ের কিছু অজানা কথা

রাজ-শুভশ্রীর বিয়েতে কী ঘটল বলিউড কানেকশন,জেনে নিন

নিঃশব্দে, হয়ে গেল রাজ-শুভশ্রীর বিবাহ।

প্রায় ৭০-৭৫ জন নিমন্ত্রিত অতিথির মধ্যে কেউ বুঝতে পারেনি কেন রাজ তাঁদের আমন্ত্রণ করেছেন। সবাইকে চমকে দিয়ে হঠৎ ঘোষণা করে দিলেন যে, তাঁরা বিয়ে করছেন।

ছবি

‘চ্যালেঞ্জ’ ছবিতে শুভশ্রীকে লঞ্চ করেছিলেন রাজ। কিন্তু, তারও আগে এক বলিউড পরিচালকের ‘সহৃদয়তা’য় ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখার সুযোগ পেয়েছিল টলি-নায়িকা। যাঁর এই মুহূর্তে সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটে জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি।

শুভশ্রীর এই দীর্ঘ পথে প্রথম ধাপটি মোটেই সহজ ছিল না। বড়ই কঠিন ছিল তাঁর প্রতিযোগিতা।

আনন্দলোক পত্রিকার উদ্যোগে এক ট্যালেন্ট হান্ট অনুষ্ঠান ‘নায়িকার খোঁজে’তে নাম দিয়েছিল বর্ধমানের এক কিশোরী। সুন্দরী, দীর্ঘাঙ্গী এই কিশোরী ছিল আসলে ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি। ভাবা যায়!

অডিশনে এসে অভিনয়টাও মন্দ করেননি শুভশ্রী। কিন্তু অন্যান্য প্রতিযোগীরাও কেউ তাঁর থেকে কম ছিলেন না। কাজেই কখনও বেশি, কখনও কম নম্বর পেয়ে ভাগ্যের জোরেই এগোচ্ছিলেন। কোনওমতে উঠেছিলেন ফাইনাল রাউন্ডে।

ভাগ্যের চাকা ঘুরল গ্র্যান্ড ফিনালের দিন!

ছবি

 

বিচারকের চেয়ারে ছিলেন অনুরাগ বসু। সঙ্গে ছিলেন টলিউডের অন্য দুই তারকাও। বলিউডের বিখ্যাত পরিচালক কিন্তু প্রথম নজরেই চিনে নিয়েছিলেন এই প্রতিভাকে। প্রতিটি রাউন্ডেই অনুরাগ বসুর মার্কশিটে একটু বেশিই নম্বর পাচ্ছিলেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় নামের এই প্রতিযোগী।

‘‘শুনলাম রাজ চক্রবর্তী আর শুভশ্রী বিয়ে করেছেন। ক্রেডিটটা কিন্তু নির্লজ্জভাবে আমিই নেব!’’ হাসতে হাসতে ফোনে বললেন অনুরাগ বসু। মুম্বইয়ের ফ্ল্যাট থেকে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার দিলেন এবেলা.ইন-কে।

‘‘আমার স্পষ্ট মনে আছে, ওই প্রতিযোগিতায় শুভশ্রী ছাড়া আরও তিন-চার জন ছিল, যারা ভাল অভিনয় করে। মানালি নামে একটি মেয়ে খুবই ভাল অভিনয় করছিল। আরও দুয়েকজনের নামও ভুলে গিয়েছি। কিন্তু শুভশ্রীর মধ্যে অন্যরকম একটা এক্স ফ্যাক্টর ছিল। একটা সহজাত নায়িকা-সুলভ ব্যাপার যা আমি যে-কোনও নায়িকাদের মধ্যে খুঁজি। আমি ছাড়া বাকি প্যানেলিস্টরা কিন্তু অন্য প্রতিযোগীদেরই বেশি নম্বর দিচ্ছিল! প্রতিযোগিতার পরের দিন শুভশ্রী আমার সঙ্গে দেখা করতে এল। সঙ্গে ওর বাবা, কাকু ও মামা। বর্ধমানের সীতাভোগ আর মিহিদানা উপহার দিল আমাকে। মনে আছে, ফ্লুরিজে আমরা দেখা করেছিলাম। আমার কাছে গাইডেন্স চাইছিল। অদ্ভুত একটা প্রাণবন্ততা ছিল. ডেসপারেশন আর ব্রাইটনেস ছিল ওর মধ্যে। আজ যে ও টলিউডে রাজত্ব করছে, সেটা আমার কাছে আশ্চর্যের নয়।’’ বললেন অনুরাগ বসু।

ছবি

 

কিন্তু রাজ আর শুভশ্রীর বিয়েটা আর পাঁচজনের মতো নয়। অনেক টানাপড়েন, মিডিয়ার কাটাছেঁড়া, সম্পর্কের উন্নতি-অবনতি মাঝে এগিয়ে গেছে। ‘‘ সেটাই তো ভাল!’’ বললেন অনুরাগ বসু, ‘‘ওরা জীবনের সব কিছু দেখেছে বিয়ের আগেই। যা কিছু নেগেটিভ, তা বিয়ের আগেই ঘটে যাওয়া ভাল। তাহলে সম্পর্ক দৃঢ় হয়। বিয়ের আগে আমার আর তানির (অনুরাগ বসুর স্ত্রী) সাত বার ব্রেক-আপ আর প্যাচ-আপ হয়েছে! বিয়ের পর আর কিছুই হয়নি। আনন্দেই আছি এখনও!’’ হাসতে হাসতে বললেন অনুরাগ বসু।

‘নায়িকার খোঁজে’ প্রতিযোগিতায় সে বছরের চ্যাম্পিয়ন শুভশ্রীই আজকের তারকা। রাজ চক্রবর্তীর সহধর্মিণী। কিন্তু অনুরাগ বসুর অবদান কোনওদিনই ভুলতে পারবেন না তিনি! তিনি অভিনয়ে না এলে রাজের সঙ্গে পরিচয়ই যে হতো না তাঁর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *