কেরালার বন্যায় ‘অনুদান-ব্যবসা’, পেটিএম এর টাকা সত্যি কি পৌছাল! কেরালাবাসীর কাছে

ঈশ্বরের নিজের দেশ’ বিপর্যস্ত। সাড়ে তিন লক্ষের বেশি মানুষ ঘরছাড়া। প্রাণ গিয়েছে অন্তত ৩৫০ মানুষের। অনেকেই মনে করছেন, ১৯২৪ সালের বন্যার বীভৎসতাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে এই বিপর্যয়। তবে এহেন মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে সকলেই দয়ার্দ্র নন, কেউ কেউ সুযোগসন্ধানীও।

সকলেরই জানা, কেরলবাসীর এই দুর্দিনে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন পৃথিবীর নানা প্রান্তের মানুষ। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর আবেদনে সাড়া দেয় গোটা দেশ। কেন্দ্রীয় সরকার ৫০০ কোটি টাকা সাহায্যের আশ্বাস দেয়। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও কেরলে ১৫ কোটি টাকার সাহায্যের ঘোষণা করেছেন। গুজরাত সরকার দিচ্ছে ১০ কোটি টাকা। ১০ কোটি টাকা সাহায্য করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও। সব মিলিয়ে, মানবিক মুখ দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষদের ভরসা যুগিয়েছে বার বার।

ছবি

এই অবস্থাতেই ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছে পেটিএম। গত ১৭ অগস্ট সংস্থার ব্লগে পোস্ট করা হয়, পেটিএম সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেরলের দুর্গতদের অর্থ সাহায্য করবে। এক কোটি টাকা পর্যন্ত সাহায্য করতে পারবেন কোনও ইচ্ছুক অনুদানকারী। বলা হয়, পেটিএমের সাইটে ঢুকে কতগুলি সহজ পন্থা মেনে টাকা দেওয়া যাবে।

প্রতিবাদের ঝড় ওঠে পেটিএম-এর এই ব্লগ পোস্টের ঠিক পরে পরেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদীরা একটি সহজ প্রশ্ন তোলেন, বন্যার এই বীভৎসতাকে কি বাজার ধরার খেলায় ব্যবহার করছে এই সংস্থা। কেরল সরকারের নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা সত্ত্বেও কেন টাকা পাঠাতে পেটিএম-এর মতো বেসরকারী ব্যবসায়িক সংস্থাকে ব্যবহার করবে মানুষ? প্রশ্নের উত্তর প্রতিবাদীদের কাছে রয়েছে। তাঁরা বলছেন অঙ্কটা সহজ। আসলে লক্ষ মানুষের অসহায়তা, লক্ষ সাধারণ অনুদানকারী— এই দুইকে পেটিএম ব্র্যাণ্ড প্রোমোশানের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

পেটিএম-নাটক অবশ্য এখানেই শেষ নয়। ১৮ অগস্ট নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক মঞ্চস্থ হয়। পেটিএম সিইও বিজয়শেখর শর্মা টুইটে একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে জানান, তিনি কেরালায় ব্যক্তিগত ভাবে ১০০০০ টাকা ডোনেট করেছেন। এর ঠিক পরে পরেই পেটিএম-এর একটি অফিশিয়াল টুইটার পোস্টে জানানো হয় ৪ লক্ষ পেটিএম ব্যবহারকারীর মোট ১০ কোটি টাকা তুলে দেওয়া হবে কেরল সরকারকে।

এর পরেই শোরগোল পড়ে নেটিজেনদের মধ্যে। বলাই বাহুল্য ,যখন সারা দেশের তাবড় বড় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা, অভিনেতারা ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বড় অঙ্কের টাকা অনুদান দিচ্ছেন তখন এই সফল কোটিপতির এই সামান্য অনুদান এবং তাই নিয়ে বড়াই ভাল ভাবে নেয়নি দেশের আমজনতা। আসতে থাকে নানা তির্যক মন্তব্য, কটূক্তি। কেউ বলেন, বিজয়শেখর শর্মার সন্তানরা তাদের বাবার কুকীর্তিতে লজ্জা পাবে। আবার কেউ বলেন, পেটিএম কর্তৃপক্ষ যত দিলেন, কামালেন তার চেয়ে কয়েক হাজার গুণ।

এই প্রসঙ্গে আমূলের কথা আসবে। ভারতবর্ষের সমস্ত বড় ঘটনা দুর্ঘটনায় আমূলকে পাশে পেয়েছে দেশ ১৯৪৮ সাল থেকে। আমূলের খুদে মেয়েটি ভারতবাসীর আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। সুখ-দুঃখে পাশে থেকে ভারতবাসীর বিশ্বস্ততা অর্জন করেছে আমূল। সুযোগ বুঝে ফাটকা খেলেনি।

সূত্র : এবেলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *