ভালোবাসা কি কেবল মনের ব্যাপার নাকি মস্তিষ্কের খেলা !কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা জেনেনিন

ভালোবাসা; দুজন মানুষের মনের মিল হলে যখন তারা কোন সম্পর্কে আবদ্ধ হয় তখন তাকে ভালোবাসা বলা হয়। বিজ্ঞান কিন্তু ভিন্ন কথা বলে। ভালোবাসাকে বিজ্ঞান মস্তিষ্ক, হরমোন ইত্যাদি মিশিয়ে প্রকাশ করে। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক ভালোবাসা নিয়ে বিজ্ঞান কি যুক্তি দেয়। মস্তিস্কের কোন অংশ ভালোবাসা বহন করে? মস্তিষ্ক সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা থাকে।
এর একেক অংশের কাজ একেক রকম। মস্তিষ্কের ডান অংশ সাধারণত মানুষের আবেগ, অনুভূতি, ক্রিয়েটিভিটি, ভাবনা ইত্যাদি বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। মস্তিষ্কের বাম অংশ লজিক, কারন,
প্ল্যান, ব্যাখ্যা ইত্যাদি বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে।তাই বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় মস্তিষ্কেরডান অংশই ভালোবাসাজনিত যাবতীয় বিষয় বহন করে থাকে।

ছবি 

 

ভালোবাসার প্রাথমিক পর্যায়ে ভালোবাসা জনিত কারনে সচল থাকা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে ডোপামিন প্রবাহিত হয়ে থাকে। এটি ভালোবাসাকে উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যায়। এ কারনে ডোপামিনকে ভালোবাসার ড্রাগও বলা হয়ে থাকে। মানুষকে আকৃষ্ট করতে মস্তিষ্কের কোন রাসায়নিক পদার্থ দায়ী? একজন মানুষ যখন অন্য একজন মানুষের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে তখনই তারা এঁকে অপরের কাছে আসে যা পরবর্তীতে ভালবাসার সৃষ্টি করে। ভালোবাসার প্রাথমিক পর্যায়ে মানুষের মাঝে ৩টি বিষয় বেশি কাজ করে। কাছে পাওয়ার ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা আর ভবিষ্যৎ লক্ষ্য। কাছে পাওয়ার ইচ্ছার জন্য আমাদের সাধারণ সেক্স সেল, ইস্ট্রোজেন এবং টেস্টোস্টেরন দায়ী। ভবিষ্যৎ লক্ষ্য আমাদের পুরো দেহ জুড়েই অবস্থান করে কেননা এর জন্য একগুচ্ছ এড্রেনালিন দায়ী। এই রাসায়নিক পদর্থ মানুষকে প্রতিকুল পরিস্থিতি মোকাবেলা ও দায়িত্ব নিতে সাহায্য করে। এই একই রাসায়নিক পদার্থ ভালোবাসায় প্রথম দিকে মানুষের শ্বাসের হার এবং ঘামের হারও বৃদ্ধি
করে থাকে।

এ কথা সত্য যে ভালোবাসা একটি মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার। তবে এর জন্য মস্তিষ্ক এবং তার বিভিন্ন উপাদানও কিন্তু কম দায়ী নয়। এই যেমন ভালোবাসার প্রাথমিক পর্যায়ে সেরেটোরিন এবং ডোপামিনের মত রাসায়নিক পদার্থগুলো মনকে সতেজ রাখে, অন্যের প্রতি আকৃষ্ট করে। মূলকথা হল মনকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে এই রাসায়নিক পদার্থগুলো।এরপর ভালোবাসায় আসে কাছাকাছি আসা, একে অপরকে বোঝা এই ব্যাপারগুলো। এই পর্যায়ে মস্তিষ্ক অক্সিটসিন প্রবাহিত করে। ভালোবাসা মনের ব্যাপার হলেও বিজ্ঞানের বাইরে নয়। ভালোবাসাও তাই অজানা কোন বিষয় নয়। দেহ ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক নিয়মেই মানুষ একে অপরের কাছে আসে এবং ভালোবাসার সম্পর্কে জড়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *